৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ২০২৪ ইতিহাসের স্মরণীয় দিন
আজকের দিনটি (৫ আগস্ট) বাঙালি জাতির জন্য একটি স্মরণীয় দিন হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ১৫ বছর পর পরাজয়ের সম্মুখীন হলো। কোটা সংস্কার আন্দোলনের জেরে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এবং তার ছোট বোন শেখ রেহানা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। তারা গণভবন থেকে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন।
সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লং মার্চ টু ঢাকা ছিল আজকের মূল কর্মসূচি। জুলাই মাসজুড়ে চলা আন্দোলনের পর, অবশেষে কোটা সংস্কারের ঘোষণা আসে। কিন্তু সহিংসতার জেরে শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবি ওঠে। আজ সকাল থেকে ঢাকার পথে মানুষের ঢল নামতে থাকে। কারফিউ উপেক্ষা করে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসতে থাকে। এক পর্যায়ে শাহবাগ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
আজ দুপুর আড়াইটায় বঙ্গভবন থেকে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা উড্ডয়ন করেন। বিকেল ৪টায় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে ঘরে ফেরার আহ্বান জানান এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। সেনাপ্রধান আশ্বাস দেন যে সব হত্যা ও অন্যায়ের বিচার করা হবে এবং দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে।
দুপুরে সেনাপ্রধান দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। জুলাইয়ের শুরুতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। প্রথমে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চললেও ১৪ জুলাই পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সারাদেশে আন্দোলন স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রাণহানি বাড়তে থাকে। শেষমেশ সরকার পতনের এক দফা দাবি নিয়ে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে আসে।
আশা করা যায় যে, এই আন্দোলনের ফলস্বরূপ দেশে শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
